শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ জয়ে টাইগারদের প্রাপ্তি

Spread the love

শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রথম সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। তিন ম্যাচ সিরিজের পরপর দুই ম্যাচ জয়ে এক ম্যাচ হাতে থাকতে সিরিজ নিশ্চিত করল টাইগারা। মিস্টার ডিপেন্ডেবল খ্যাত মুশফিকুর রহিমের ব্যাটিং এবং কার্টার মাস্টার মুস্তাফিজ, সাকিব আল হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজের বোলিং নৈপুণ্যে এই কীর্তি গড়লো টাইগাররা।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এই সিরিজ জয়ের পর ২০২৩ বিশ্বকাপের কোয়ালিফিকেশন টুর্নামেন্ট আইসিসির ওডিআই সুপার লিগের পয়েন্ট তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান এখন এক নম্বরে। ৮ ম্যাচ খেলে ৫০ পয়েন্ট পাওয়া বাংলাদেশ এখন সবার শীর্ষে। যেখানে ইংল্যান্ড, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়াকে টপকে শীর্ষস্থান দখল করলো টাইগাররা।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বার্তায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে সিরিজ জয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। এছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামও সিরিজ জয়ের জন্য টাইগাারদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ম্যাচে ৪৮.১ ওভারে ২৪৬ রানে অলআউট হয় স্বাগতিকরা। ২৪৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৩৮ ওভারে ৯ উইকেটে ১২৬ রান তোলার পর বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর বৃষ্টি আইনে ৪০ ওভারে শ্রীলঙ্কার নতুন লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৪৫ রান। শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কা ৯ উইকেটে ১৪১ রান তুলতে সক্ষম হয়। ফলে ১০৩ রানের বিশাল জয় পায় স্বাগতিকরা। মুশফিকুর রহিম সর্বোচ্চ ১২৫ রান করে ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন।

মঙ্গলবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে দ্বিতীয় ওভারে দলীয় ও ব্যক্তিগত ১৫ রানে তামিম ইকবাল এবং শূন্য রানে সাকিব আল হাসানের উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। দলীয় রান ৫০ ছোঁয়ার আগেই ব্যক্তিগত ২৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন লিটন দাস। এরপর ১০ রান করে মোসাদ্দেক হোসেন আউট হলে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ৭৪। এরপর দলের হাল ধরেন মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ। পঞ্চম উইকেটে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে সঙ্গে নিয়ে ৮৭ রানের জুটি গড়েন মুশফিকুর রহিম। ব্যক্তিগত ৪১ রান করে তিনি আউট হন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এরপর দ্রুত আউট হন আফিফ হোসেন ও মেহেদি হাসান মিরাজ। মাত্র ২৩ রানের ব্যবধানে পরপর ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তবে লিটিল মাস্টার মুশফিকুর রহিম দ্বিতীয় ম্যাচে নিজের অষ্টম সেঞ্চুরি করে ঘোচালেন প্রথম ম্যাচে সেঞ্চুরি না-পাওয়ার কষ্ট। আউট হওয়ার আগে ১২৭ বলে ১০টি চারের সাহায্যে তিনি গড়েন ব্যক্তিগত ১২৫ রানের এক কাব্যিক ইনিংস। শেষ পর্যন্ত ৪৮.১ ওভারে ২৪৬ রানে অলআউট হয় স্বাগতিকরা।

২৪৭ টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরুতে শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক কুশল পেরেরাকে সাজঘরে পাঠিয়ে ক্যারিয়ারের অভিষেক উইকেট পান শরিফুল ইসলাম। মোস্তাফিজের অফের বল ডিপ অনে স্কয়ার কাট করতে গিয়ে দ্বিতীয় উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। মোস্তাফিজের বলে সাকিবের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান দানুশকা গুনাথিলাকা। এরপরই শুুর হয় সাকিব আল হাসান ও মেহেদী হাসানের স্পিন তাণ্ডব। দু’জনের স্পিন জাদুতে বিভ্রান্ত হয়ে একের পর এক সাজঘরে ফিরে লঙ্কান দলের ৫ ব্যাটসম্যান। সাকিব তুলে নেন পাথুম নিসানকা, ধনাঞ্জয়া ডি সিলভার উইকেট এবং মিরাজ তুলে নেন কুসল মেন্ডিস, দাসুন শানাকা ও ওয়ানিন্দু হাসারঙ্গার উইকেট। এরপর লঙ্কান শিবিরে জোড়া আাঘাত হানেন কার্টার মাস্টার মুস্তাফিজ তুলে নেন আশেন বান্দারা ও লাকসান সান্দাক্যানের উইকেট। শ্রীলংকা ৩৮ ওভারে  ৯ উইকেট হারিয়ে ১২৬ রান করার পর বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায়।

বৃষ্টির কারণে ৩৩ মিনিট পর খেলা শুরু হওয়া ম্যাচ গড়ায় কার্টল ওভারে। বৃষ্টি আইনে ৪০ ওভারে শ্রীলঙ্কার নতুন লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৪৫ রান। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে দলীয় ১৪১ রানে শ্রীলঙ্কা ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে। লঙ্কান দলের সর্বোচ্চ ২৪ রান করেন ওপেনার ধানুশকা গুনাথিলাকা। ২০ রান করেন পাথুম নিশাঙ্কা।

বাংলাদেশ দলের হয়ে মেহেদী হাসান মিরাজ ও মোস্তাফিজুর রহমান ৩টি করে উইকেট নেন । দুই উইকেট শিকার করেন সাকিব আল হাসান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ৪৮ ওভারে ২৪৬/১০ (মুশফিক ১২৫, মাহমুদউল্লাহ ৪১, লিটন ২৫)।
শ্রীলংকা: ৪০ ওভারে ১৪১/৯ (গুনাথিলাকা ২৪, নিশাঙ্কা ২০; মিরাজ ৩/২৮, মোস্তাফিজ ৩/১৬, সাকিব ২/৩৮)।
ফল: বাংলাদেশ বৃষ্টি আইনে ১০৩ রানে জয়ী।

তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-০তে জিতল টাইগাররা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *