জামিন পেলেন সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম, পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ।

Spread the love

স্টাফ রিপোর্টার;

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের করা দণ্ডবিধি ও অফিশিয়াল সিক্রেক্টস অ্যাক্টের মামলায় বন্ড ও পাসপোর্ট জমার শর্তে প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ রোববার সকালে ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ বাকি বিল্লাহ ভার্চুয়াল শুনানি শেষে সাংবাদিক রোজিনার জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন।

একজন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং নিয়োজিত আইনজীবীর জিম্মায় পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় আদালত রোজিনা ইসলামকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন। সেই সঙ্গে আদালত রোজিনাকে তার পাসপোর্ট জমা দিতে বলেছেন।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষ হয়। দুই পক্ষের আইনজীবীদের ভার্চ্যুয়ালি অংশ গ্রহণে প্রায় ঘন্টাব্যাপী জামিন আবেদনের শুনানি গ্রহণ করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বাকী বিল্লাহ। শুনানি শেষে আদালত সেদিন তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত দেননি।

রাষ্ট্রপক্ষের তথ্য উপস্থাপন ও জামিন বিষয়ে আজ আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী তাপস কুমার পাল ও হেমায়েত উদ্দিন খান।

জামিন আবেদনের শুনানির পর রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আবদুল্লাহ আবু সাংবাদিকদের জানান, এ মামলায় কিছু তথ্য–উপাত্ত আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে কী তথ্য, তা তিনি বিস্তারিত জানাননি।

অপরদিকে, রোজিনা ইসলামের আইনজীবীরা শুনানিতে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যমূলক বলে যুক্তি উপস্থাপন করেন এবং তিনি জামিন পাওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করেন বলে দাবি জানান।

উল্লেখ্য, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে ১৭ মে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রায় ছয় ঘণ্টা আটকে রেখে হেনস্তা ও নির্যাতন করা হয়। রাত সাড়ে আটটার দিকে তাঁকে শাহবাগ থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রাত পৌনে ১২টার দিকে তাঁর বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা করা হয় এবং উক্ত মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১৮ মে রোজিনা ইসলামকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। পুলিশ তাঁকে পাঁচ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালত রিমান্ডের আবেদন নাকচ করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আর জামিন আবেদনের ওপর অধিকতর শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন রাখেন। এই আদেশের পর রোজিনা ইসলামকে কাশিমপুর মহিলা কারাগারে পাঠানো হয়।

এছাড়া সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের মুক্তি দাবিতে কয়েক দিন ধরেই প্রতিবাদ ও আন্দোলন চলেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও প্রতিবাদ হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *